
শুরুর কথা
আখেরী নবী সরকারে দো’আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুয়তে পরিসমাপ্তির পর সুশৃংখল পন্থায় এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে মানুষের মুক্তির প্রয়োজনীয় উপাদান সমূহ সংরক্ষণ, অনুশীলন, নিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক উন্নয়নের জন্য দ্বীন ইসলামের দিক নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন সত্যের মশালধারী সাহাবায়ে কেরাম, আহলে রাসূল তথা আউলিয়ায়ে কামেলীনগণ।
সুদূর আরব থেকে আউলিয়া কেরামগণ এদেশে এই উদ্দেশ্যে জলপথে আসা আরম্ভ করেন আনুমানিক ৮০০ খৃষ্টাব্দে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম হয়ে ওঠে এতদঞ্চলের প্রবেশ-দ্বার। এই চট্টগ্রামের পাহাড়-পর্বত, সমুদ্রতট ইত্যাদি নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ আউলিয়া কেরাম ও সূফী সাধকদের আধ্যাত্ম সাধনার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। তাঁরা চট্টগ্রামের বর্তমান শহর এলাকা ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে আস্তানা গড়ে তোলেন এবং মানুষের মাঝে ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণী প্রচার করেন।
হযরত শায়খ মোহাম্মদ গৌরী (রহঃ) এঁর জীবনী
এই সূফীকূল শিরোমণি সূদুর বাগদাদ শরীফ থেকে তৎকালীন বাংলার গৌররাজ্য হয়ে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে দিল্লী সম্রাটের আমন্ত্রণে সুলতানী আমলে বর্তমান বোয়ালখালী থানাধীন করলডেঙ্গা পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন করেন এবং মানুষের মাঝে ইসলামের শান্তির বাণী প্রচার করা আরম্ভ করেন, যার বর্তমান নাম আহ্লা শেখ চৌধুরী পাড়া; যা ‘আহ্লা দরবার শরীফ’ নামে প্রসিদ্ধ। পরবর্তীতে মানুষের সুবিধার্থে এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে একটি সুবিশাল দীঘি খনন করান।
কথিত আছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে আগমনের পূর্বে হযরত শায়খ মোহাম্মদ গৌরী (রহ:) একবার পবিত্র হজ্জ্বব্রত পালন শেষে মদীনা মুনাওয়ারায় হুজুর নূর মোহাম্মদ (দ:)-এর রওযা শরীফ জিয়ারতে যান, জিয়ারতকালে রওযা মোবারক হতে তাঁর প্রতি নির্দেশ এলো ইসলাম প্রচারের জন্যে তিনি যেন দক্ষিণ এশিয়ার চট্টগ্রাম অঞ্চলে গমন করেন। এই নির্দেশ পাওয়ায় হুজুর পাক (দ:) এর কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় রওযা শরীফের পবিত্র গিলাফ মোবারক স্পর্শ করে ক্রন্দনরত অবস্থায় তিনি আরজি পেশ করেন, অজানা এই গন্তব্যের স্থানে ইসলামের প্রচার-প্রসার যেন তাঁর আওলাদে পাকগণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী হয়। তাঁর এই ফরিয়াদ রাসূলে করিম (দ:)-এর দরবারে কবুল হয়।
এই মহান সাধক ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের প্রারম্ভে বেসাল প্রাপ্ত হন। তাঁরই বংশধারায় হলেনঃ
- হযরত সৈয়দ দানু মিয়া
- হযরত সৈয়দ মুনির আহমদ মিয়া
- হযরত সৈয়দ আনিস মিয়া
- হযরত সৈয়দ সফর আলী
- কুতুবে যামান জনাব হযরত সৈয়দ কাজী আসাদ আলী (রহঃ)
- সুলতানুল মুনাযেরীন, হযরত সৈয়দ আবুল মোকারেম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল কাদেরী আল চিশতী (রহঃ)
- হযরত আলহাজ্ব সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দিন খালেদ আল কাদেরী আল চিশতী (রহঃ) এবং
- আহলা দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন রাহাবারে ত্বরিকত
শাহ্সুফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী আল-চিশ্তী (মাঃজিঃআ) সাহেব কেবলা
তাঁর সাধনা, ইসলামের শিক্ষা ও তাসাওফের দীক্ষা দানের ফলে এতদঞ্চলের মানুষ সত্যপথ প্রাপ্ত ও খোদাতা’লার নৈকট্য লাভ করেন। ইসলামের মৌলিক নিয়ম-কানুন সুষ্ঠুভাবে শিক্ষাদান ও আমল করার জন্যে প্রয়োজন হয় একটি সুনির্দিষ্ট স্থান যা আজকের আহলা দরবার শরীফ।
ঐতিহ্যবাহী দিঘী
১৬০০ খৃষ্টাব্দের শেষভাগে বর্তমান আহলা দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে হযরত শায়খ মোহাম্মদ গৌরী (রহ:) একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, পরবর্তীকালে মানুষের সুবিধার্ধে তাঁর আমলেই এই মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি বিশাল দীঘি খনন করা হয়।

সুলতানুল আরেফিন হযরত সৈয়দ সুলতান আহমদ আল-বাগদাদী (রহঃ) এঁর জীবনী
১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষলগ্নে কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত সাধক গাউসুল আজম হযরত মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী প্রকাশ হযরত গাউছে পাক (রহঃ) এঁর আওলাদে পাক শামসুল আরেফীনসৈয়দ সুলতান আহমদ আল বাগদাদী (রহঃ) এ অঞ্চলে আগমন করেন এবং হযরত শায়খ মুহাম্মদ গৌরী (রহঃ) এঁর মাযার শরীফ চিহ্নিত করেন। তিনি আধ্যাত্ম সাধনায় এত উচ্চ মার্গের ছিলেন যে মোরাকাবা, মোশাহাদায় দিন-রাত্রি অতিবাহিত করতেন। বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এর শাসনামলে (জরিপ কাল: ১৬৭৬ থেকে ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) আনুমানিক ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মঘা জরিপকর্মীরা অত্র এলাকায় হযরত সৈয়দ সুলতান আহমদ আল-বাগদাদী (রহঃ)-কে তাঁর দেহ মোবারকের চারপাশে উইপোকার ঢিবি দ্বারা আবৃত অবস্থায় “আল্লাহু”, “আল্লাহু” জিকির রত অবস্থায় দেখতে পান। এই “আল্লাহু” জিকির ধ্বনি অনুসারে এই মৌজার নাম আহ্লা রাখেন তারা। হযরত বাগদাদীর শুভাগমনে আহলা দরবার শরীফ আধ্যাত্ম সাধনার স্থান হিসেবে আরো সমৃদ্ধ হয়। ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দের সূচনালগ্নে এই মহান সাধক বেসালপ্রাপ্ত হন।
বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এর শাসনামলে আনুমানিক ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মঘা জরিপকর্মীরা অত্র এলাকায় হযরত সৈয়দ সুলতান আহমদ আল-বাগদাদী (রহঃ)-কে তাঁর দেহ মোবারকের চারপাশে উইপোকার ঢিবি দ্বারা আবৃত অবস্থায় “আল্লাহু”, “আল্লাহু” জিকির রত অবস্থায় দেখতে পান। এই “আল্লাহু” জিকির ধ্বনি অনুসারে এই মৌজার নাম আহ্লা রাখেন তারা। পরবর্তীতে এলাকাটি ‘আহ্লা ‘ নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করে।
কুতুবে যমান হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী (রহ:)-এঁর জীবনী
কুতুবে যমান, কাশফুল কুবূর ও আধ্যাত্ম্য জগতের সম্রাট কাজী আসাদ আলী (রহমতুল্লাহি আলাইহ) হলেন আহলা দরবার শরীফের প্রাণপুরুষ এবং তাঁরই পূর্বপূরুষ হযরত শায়খ মুহাম্মদ গৌরী (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এঁর দোয়ার বাস্তব রূপ। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি কোনো এক সমযে মৌলভী সৈয়দ সফর আলী সাহেবের ঔরসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মৌলভী সৈয়দ সফর আলী সাহেব ছিলেন পটিয়া বড় উঠান অঞ্চলের জমিদার। আহলা মৌজা ছিল তাঁর জমিদারীর আওতাভুক্ত একটি পরগণা। সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত মুসলিম জমিদার পরিবারের অভিজাত পরিবেশে হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহ) বেড়ে উঠেন। পূর্বপূরুষদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যসূত্রে শৈশবেই হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এঁর মনে গভীর খোদাপ্রেম, সৃষ্টির জিজ্ঞাসা, ধর্মানুরাগের উন্মেষ ঘটে। মাধ্যমিক শিক্ষাশেষে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে তৎকালীন হিন্দুস্তানের কোলকাতা থেকে টাইটেল ডিগ্রী অর্জন করে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। তাঁর বিভিন্ন জনহিতকর কাজের সুখ্যাতির পরিপ্রেক্ষিতে বৃটিশ প্রশাসন তাঁকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াস্থ কাউখালিতে তৎকালীন বিচারালয়ের কাজী তথা বিচারকের পদ গ্রহণে প্রস্তাব করলে তিনি সানন্দে এই সম্মানজনক পদ গ্রহণ করেন এবং সততা ও ন্যায়পরায়ণতা সহকারে কাজী পদে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেন।
তিনি এই উপমাদেশখ্যাত মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ও কাদেরীয়া তরীকার পীর, গাউসুল আযম, হযরত সৈয়দ আহমউল্লাহ আল-হাসানী সাহেব কেবলা রহমতুল্লাহি আলাইহ (১৪ জানুয়ারি, ১৮২৬ – ২৩ জানুয়ারি, ১৯০৬)- এঁর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর পবিত্র হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। তিনি গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ আহমদউল্লাহ আল-কাদেরী আল-হাসানী কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এঁর অন্যতম খলীফা হিসেবে পরিণত হন এবং স্বীয় পীর ও মুর্শীদ কর্তৃক ‘জনাব’ উপধিতে ভূষিত হন। তাঁর অপর লকব হলো ‘কুতূবে যমান’। খেলাফতপ্রাপ্তির পর হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহ) আহলা দরবার শরীফে কায়েম মকাম হন ও সুফীতত্ত্বের চর্চা সহ ইসলাম ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহ) ১২ই মে ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ, ২৭শে জামাদিউস সানি, ১৩৩৩ হিজরী, ২৯শে বৈশাখ, ১৩২২ বঙ্গাব্দ খোদাতা’য়লার সাথে পরলোকে মিলনপ্রাপ্ত হন।
হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী কেবলা (রহঃ)-এঁর ফয়েজপ্রাপ্ত বুযূর্গবৃন্দ হলেন:
- গরিব আলী শাহ (রহ.), নলান্দা, পটিয়া, চট্টগ্রাম
- শোকর আলী শাহ (রহ.), ইমামুল্লার চর, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম
- বাচা ফকির (রহ.) কাউখালি, রাঙ্গুনিয়া,চট্টগ্রাম
- মকবুল চৌধুরী (রহ.), রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম
- মৌলভী আবদুল হক মাস্টার, খিতাপচর, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম; এবং
- খায়রুজ্জামান মাস্টার, খরনা, পটিয়া, চট্টগ্রাম।
শাহ্ সূফি আবুল মোকারেম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল কাদেরী ওয়াল চিশতী সাহেব কেবলা প্রকাশ নূরী বাবা (রহঃ)- এঁর জীবনী
হযরত শায়খ মোহাম্মদ গৌরী (রহঃ), সুলতানুল আরেফিন হযরত সৈয়দ সুলতান আহমদ আল-বাগদাদী (রহঃ) এবং কুতুবে যমান হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী (রহঃ) এর পূণ্যস্মৃতি বিজরীত পবিত্র আহলা দরবার শরীফে ১৯১০ সালে হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী (রহঃ) এর ঔরশে হাজতে রওয়া, মুশকিল কোশা, সুলতানুল মুনাযেরীন, হযরতুল আল্লামা শাহ্ সূফি আবুল মোকারেম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল কাদেরী ওয়াল চিশ্তী সাহেব কেবলা প্রকাশ নূরী বাবা (রহ.)-এর বেলাদত (ধরাধামে শুভাগমন) হয়। তাঁর মায়ের নাম মোসাম্মৎ গুলবাহার খাতুন।

‘নূর’ অর্থ আলো যা নিজেও আলোকিত এবং অপরকেও আলোকিত করে। তিনি তাসাউফ (সূফীতত্ত্ব) ও তরীকতের আলো বিচ্ছুরিত করে অনেক মানুষকে হেদায়াত দিয়েছেন। ১৯১৫ সালে তাঁর পিতা কুতুবে যমান হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী কেবলা (রহঃ) পর্দা করেন। আহলা দরবার শরীফের মৌলভী খলিল আহমদ সাহেবের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মাদ্রাসায় মাধ্যমিক স্তরের পড়াশুনা শেষ করার পর হযরত নূরী বাবা (রহ.) উচ্চ শিক্ষর্থে কোলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় তত্কালীন উপমহাদেশখ্যাত আলেমে হক্কানী মোলানা সফি উল্লাহ সাহেব (রহ.) এর তত্ত্বাবধানে অধ্যায়ন আরম্ভ করেন এবং কৃতিত্বের সাথে টাইটেল সনদ লাভ করেন। শিক্ষা জীবন শেষে দেশে ফিরে হযরত নূরী বাবা (রহ.) সাধককুল শিরোমণি গাউছুল আযম মাওলানা শাহ সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী (রহমতুল্লাহি আলাইহ) (১৮৬৫-১৯৩৭ খৃঃ)-এঁর আধ্যাত্মিক শিয়্যত্ব লাভ করেন। সাধনার চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর পীর ও মুর্শিদ তাঁকে খেলাফত দান করেন। খেলাফত প্রাপ্তির পর নূরী বাবা (রহ.) নিজ পীর ও মুর্শিদের তরিকা কাদেরীয়া সিলসিলা অনুযায়ী মানুষকে দীক্ষা দিতে থাকেন এবং বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, রুসুম-রেওয়াজ, সুচারু ভাবে পালিত হতে থাকে। সমগ্র বাংলাদেশে নূরী বাবা (রহ.) রুহানী যশ প্রতিপত্তির প্রভাব পড়ে। সাধককুল শিরোমণি গাউছুল আযম মাওলানা শাহ সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী আল হাসানী ওয়াল (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এঁর সুযোগ্য খলিফা ও কুতুবে যমান হযরত জনাব কাজী আসাদ আলী (রহঃ)-এঁর বংশের আধ্যাত্মিক প্রাণপুরুষ, বিশিষ্ট মোনাযের ও তরীকত প্রচারক হাজতে রওয়া, মুশকিল কোশা, সুলতানুল মুনাযেরীন, হযরতুল আল্লামা শাহ্ সূফি আবুল মোকারেম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল কাদেরী ওয়াল চিশ্তী সাহেব কেবলা প্রকাশ নূরী বাবা (রহ.) সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭৬ খৃষ্টাব্দ, ২৮শে অগ্রহায়ন ১৩৮৩ বাংলা, ২২শে জিলহজ্ব ১৩৭৬ হিজরীত, রোজ মঙ্গলবার, সকাল ৬টা ২২ মিনিটে খোদাতা’য়লার সাথে পরপারে বেসল তথা মিলনপ্রাপ্ত হন।
হাদীয়ে জামান হযরত শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ)

জন্ম, শিক্ষা এবং পারিবারিক জীবন
এদেশের আধ্যাত্মিক জ্ঞান চর্চার অনন্য লীলাভূমি আহলা দরবার শরীফে ১৯৫১ সালে, হযরত নূরী বাবা (রহ:)’র ঔরশে পীরে কামেল, মোনাজেরে আহলে সুন্নাত, হাদীয়ে জামান, হযরতুল আল্লামা শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী, আল্-চিশতী (রহ:) জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশবকাল থেকেই হযরত সেহাব বাবা (রহ:)’র মধ্যে গভীর খোদাপ্রেম, আধ্যাত্মনুরাগ ও ভবিষ্যত মহত্বের সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হয়। স্বীয় পিতার মাতার নিকট থেকে পার্থিব যাবতীয় জ্ঞান অর্জন শেষে প্রাক-প্রাথমিক, মাধ্যমিক পর্যায় অতিক্রম করে চট্টগ্রামের অন্যতম ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসা হইতে কামিল শ্রেণীতে হাদিস শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। তার শিক্ষা জীবনের একটি বৈশিষ্ট্য ছিলো যে, তিনি প্রত্যেক শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করতেন।
বৈবাহিক জীবনে হযরত সেহাব বাবা রহমাতুল্লাহ আলাইহি চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানাধীন বরুমছড়া ইউনিয়নের মিয়া বাড়ীস্থ মরহুম মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী এর কন্যা মোছাম্মৎ শামীম আকতার চৌধুরাণীর সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সাংসারিক জীবনে তার ঔরসে তিন কন্যা সন্তান ও একজন পুত্র সন্তান (শাহজাদা সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী) জন্মগ্রহণ করেন।
বায়াত এবং খেলাফত প্রাপ্তি
হযরত নূরী বাবা রহমাতুল্লাহি আলাইহির আধ্যাত্মিকতায় মজে জীবনের এক পর্যায়ে স্বীয় পিতা, পীর এবং মুরশীদ সুলতানুল মোনাজেরীন হযরত নূরী বাবা (রহঃ)’র আধ্যাত্মিক শিষ্যত্ব (বায়াত) গ্রহণ করেন। উনার জাহেরী জীবদ্দশায় উনার জ্যেষ্ঠপুত্র রাহনুমায়ে শরীয়ত ওয়াত্ তরিক্বত, হাদিয়ে জামান, মোনাজেরে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল্-ক্বাদেরী, আল্-চিশতী সাহেব কেবলা রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে উনার জাহেরী অবর্তমানে স্থলাভিষিক্ত (সাজ্জাদানশীন) ঘোষণা করেন।
কালক্রমে আহ্লা দরবার শরীফ ভিত্তিক সূফীতত্ত্ব চর্চা, ত্বরিকত প্রচার ও প্রসারের ঐতিহ্যকে তিনি আরো সুসংহত ও শক্তিশালী করেন। হযরত সেহাব বাবা (রহ:)’র আমলেই আহ্লা দরবার শরীফ ব্যাপক প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতি লাভ করে। সম্পূর্ণভাবে ইসলামী জীবন যাপনের পাশাপাশি পীরের নির্দেশিত আধ্যাত্মিক সাধনায় ক্রমশ: তিনি আরও গভীরতায় নিমগ্ন হন।
জাতীয় পর্যায়ে সুন্নীয়তের প্রাতিষ্ঠানিক রূপকার
আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’আতের আদর্শের আলোকে সুন্নীয়তকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলার জমিনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠার এই স্বপ্নদ্রষ্টার পরিকল্পনা এবং পরামর্শে ১৯৮০ সালের ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর দেবপাহাড়স্থ আহ্লা দরবার শরীফের খানকাহ্ শরীফ (খানকাহ্-এ-ক্বাদেরীয়া চিশতীয়া নূরীয়ায়) দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামাগণ এবং বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহিত সমন্বয় পূর্বক সর্বপ্রথম ১১ জন সদস্য নিয়ে তিনি সুন্নিয়তের একক অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব পালন করেন।
চট্টগ্রামের বাইরে অন্যান্য অঞ্চলেও সংগঠন বিস্তৃতি লাভ করার পেছনে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তিনি ঢাকার এ্যালিফ্যান্ট রোডের সিটি সুপার মার্কেটে পরবর্তীতে জিন্নাত ম্যানসনে ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় অফিস স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই সংগঠন সারা বাংলাদেশব্যাপী অহিংস ছাত্র রাজনীতির মডেল হিসেবে রূপ নেয়।
জাতীয় পর্যায়ে জসনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন
হযরত সেহাব বাবা রহমতুল্লাহ আলাইহের খোদাভীরুতা ও নবীপ্রেম, আম্বিয়া এবং আউলিয়া কেরামের প্রতি মুহব্বত ছিলো বর্ণনাতীত। তিনি নবীপ্রেমের নির্দশন স্বরূপ রাজধানীতে ১৯৮৯ সালে ১২ রবিউল আউয়াল শরীফের মূল দিবসে ব্যাপক এবং দৃষ্টিনন্দন আয়োজনের মাধ্যমে জসনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপনের পথিকৃৎ। এর আগে ১২ রবিউল আউয়াল এর মূল দিবসে রাজধানী ঢাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে বড় কোনো জসনে জুলুস বের হতো না।
তৎকালীন তাঁর খানকাহ শরীফ শ্যামলী থেকে জুলুস বের করে পুরো ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জশনে জুলুসের গুরুত্ব তুলে ধরে সারগর্ভ বক্তব্য রাখতেন এবং পরিশেষে মিরপুর মাজার শরীফে গিয়ে জুলুস সমাপ্ত করতেন। সেখানে যোহরের নামায শেষে মিলাদ-মাহফিল, মোনাজাত ও তাবারক বিতরণ করা হতো।
বস্তুতঃ ঠিক সেই সময় সারাদেশে এই জুলুসের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন এবং দরবার শরীফের পক্ষ থেকে রাজধানীতে ১২ রবিউল আউয়াল জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালিত হচ্ছে। কিন্তু সর্বপ্রথম ব্যাপক আকারে দৃষ্টিনন্দন আয়োজকের ভূমিকা পালন করে হযরত সেহাব বাবা (রহ:) ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য সাহেবজাদা আহ্লা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন রাহবারে তরীকত শাহ্জাদা শাহ্সূফী সৈয়দ আরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী’র পরিচালনায় রাজধানীতে সেই ঐতিহাসিক জশনে জুলস এবং ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ব্যাপকভাবে উদযাপিত হচ্ছে।
রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন এবং জাতীয় সম্মাননা অর্জন
তিনি ১৯৯০ সালে ঢাকায় জসনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে অসহায় রোগীদের কল্যাণার্থে প্রথম স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর প্রচলন করেন। তিনি রক্তদানের মাধ্যমে আল্লাহ এবং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তষ্টি অর্জন ও মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে আর্ত মানবতার সেবায় মুরিদান ও অনুসারীদের উৎসাহিত করেন।
প্রায় তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদানে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঢাকা এর পক্ষ থেকে বেস্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে পুরষ্কারে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করে আহলা দরবার শরীফ এর ত্বরিকতভিত্তিক আধ্যাত্মিক সূফী সংগঠন আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া সংগঠন।
মানবিক আঞ্জুমান এবং দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় অবদান
হযরত সেহাব বাবা (রহ:) তার জাহেরী জীবনে ভ্রান্ত বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মোনাজেরায় (সম্মুখ বিতর্কে) অবতীর্ণ হন। শরীয়তের সংশ্লিষ্ট দলিলাদির মাধ্যমে তার বক্তব্য উপস্থাপনার সাবলিলতার সহজেই প্রতিপক্ষকে পরাভূত করে ইসলামের সঠিক পথে শামিল করেন। মানুষকে সত্যের সরলপথ প্রদর্শন করে সুন্নীয়তের মৌলিক ও বিতর্কিত বিষয়সমূহ ও আচার যথা নবুয়ত ও বেলায়তে বিশ্বাস, মিলাদ-কিয়াম, মাযার-রওযা তা’যিম ও জিয়ারত, ওরশ মোবারক ও ফাতেহা পাঠ ইত্যাদি সম্পর্কে কুরআন, হাদীস, এজমা ও কিয়াসের আলোকে বাহাসের মাধ্যমে সমাধান করেন। এতদঞ্চলে ইসলামে সত্যমত প্রতিষ্ঠায় তাঁর সময়কালে তাঁর মত দ্বিতীয় কোন মোনাজের ছিলেন না।তাই বাতিলপন্থীরা তাকে প্রচন্ড ভয় ও সমীহ করত। একারনেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের শীর্ষ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ তাঁকে “হাদীয়ে জামান” উপাধিতে ভূষিত করেন।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত এর আদর্শের আলোকে দ্বীন ইসলামের সঠিক তথ্য মুসলিম সমাজে প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে ২০০০ সালে আহ্লা দরবার শরীফে প্রতিষ্ঠা করেন দ্বীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া দাখিল মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসায় বর্তমানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহু ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন করছে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খানকাহ্-এ-কাদেরীয়া চিশতীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া।
এছাড়াও, জাতির বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে দরবার শরীফের এই সূফী সংগঠনটি অসহায় ও বিপন্ন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসে একটি দায়িত্বশীল মানবিক সংগঠন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
প্রকাশনা জগতের অনন্য দিকপাল
প্রকাশনা যেকোন ইসলামি ও আধ্যাত্মিক সংগঠনের এক অনন্য মুখপত্র ও জীবন দর্পণ। তাই এ ব্যাপারে হাদিয়ে জামান হযরতুল আল্লামা শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহ.) একজন চৌকস দিক পালের অভাবনীয় ও অকল্পনীয় দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত প্রকাশনা গুলোর মধ্যে উল্লেক্ষযোগ্যঃ
- ১ – রাহবার (প্রথম প্রকাশ ১৯৮১)
- ২ – রাহনুমা (প্রথম প্রকাশ ১৯৮২)
- ৩ – সিরাজাম মুনীরা (প্রথম প্রকাশ ১৯৮০ মতান্তরে ১৯৮১)
- ৪ – ফয়সালা (প্রথম প্রকাশ ১৯৮৬ এবং চলমান)
বেসাল ও ওরশ শরীফ
আহ্লা দরবার শরীফের অন্যতম আধ্যাত্মিক প্রাণপুরুষ পীরে কামেল, মোনাজেরে আহলে সুন্নত হযরতুল আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী (রহ:) সবাইকে শোকসাগরে ভাসিয়ে ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল ২২ শে চৈত্র,০১ লা জামাদিউল আউয়াল মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টায় খোদা তা’আলার সাথে পরপারে বেছাল তথা মিলনপ্রাপ্ত হন। আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া’র ব্যবস্থাপনায় হযরত সেহাব বাবা (রহ:)’র ওরশ শরীফ তাঁর স্থলাভিষিক্ত আহ্লা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহ্জাদা শাহ্সূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)’র পরিচালনায় প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়।
মাটির মাজার

হযরত শায়খ মোহাম্মদ গৌরী (রহ:) ১৬০০ খৃষ্টাব্দের শেষভাগে বর্তমান আহলা দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে মানুষের সুবিধার্ধে তাঁর আমলেই এই মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি বিশাল দীঘি খনন করা হয়। দীঘি খননকালে তিনজন পূণ্যআত্মার দেহ মোবারক পাওয়া যায়, যা দেখে সদ্য সমাহিত মনে হয়েছে। হযরত শায়খ মোহাম্মদ গৌরী (রহ:) এই পূণ্যআত্মাদরে দীঘির পশ্চিম-উত্তর কোনায় সম্মানের সাথে পুনঃরায় দাফন করেন এবং চারিদিকে মাটির দেয়াল ও উপরে ছন দিয়ে ছাউনি করে দেন। সেই থেকে এটি মাটির মাযার হিসেব পরিচিত ছিল। কুতুবে যমান, কাশফুল কুবূর ও আধ্যাত্ম্য জগতের সম্রাট কাজী আসাদ আলী সাহেব কেব্লা (রহ.) মাটির মাযারের রওজা গুলো পূর্ব্বর্তি বুজূর্গগণদের বলে মত দেন এবং একজন কে রাজা, একজন কে উজির এবং অন্যজন কে রাণী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং দরবারে প্রবেশের পূর্বে প্রথমে মাটির মাজার যিয়ারত বাধ্যতামূলক করেন। পরবর্তিতে হযরতুল আল্লামা শাহ্ সুফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দিন খালেদ আল্ কাদেরী আল-চিশতী (রহঃ) নিজ অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে বর্তমান রূপে সজ্জিত করেন।
শাজরা শরীফ বলতে একটি সুফি তরিকার আধ্যাত্মিক বংশপরম্পরাকে বোঝানো হয়, যা সুফি পীর-মাশায়েখদের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে।
আমাদের সমৃদ্ধ লাইব্রেরির মাধ্যমে জ্ঞানের এক নতুন জগৎ আবিষ্কার করুন – যা আধ্যাত্মিক বিষয়ে শিক্ষা, গবেষণা এবং ব্যক্তিগত বিকাশকে সহজ ও গভীরভাবে সমর্থন করার জন্য নির্মিত।