সেমা মাহফিলের পক্ষে ১২টি দলিল

গান-বাজনা এবং নৃত্য কখনো হারাম নহে । পবিত্র কোরান এবং হাদিসে গান-বাজনা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব আছে । তাই আমরা গান-বাজনাকে হারাম বা নাজায়েজ বলার আগে তা নিয়ে একটু আলোচনা করা উচিত ।

আল্লাহ্ এবং তার রাসূলের আশেকদের জন্য গান-বাজনা ও নৃত্য তাদের আত্মার খোরাক ।

যদি আনন্দ-ফুর্তির জন্য গান-বাজনা করা হয় সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই হারাম বলে গন্য হবে ।

নীচে গান-বাজনা ও নৃত্য সম্পর্কে কিছু দলিল দেওয়ার চেষ্টা করছিঃ

১. খাজা মইনুদ্দীন চিশতী (রঃ) – বড় পীরকে গান শুনিয়ে ছিলেন । “নিশ্চয় রাসূলে খোদা পুরুষ প্রধান মহা গুনে গুনান্নিত মহা মহিয়ান।” সেদিন আকাশ ও জমিন একসাথে নৃত্য করেছিল খাজা বাবার গানের ছন্দে ।

সূত্র: তাযকেরাতুল আউলিয়া ৪র্থ খন্ড

২. রাসূল (সাঃ) ইন্তেকালের আগে রাসূলের ঋণ ক্ষমা চাওয়ার জন্য বিল্লাল তার গলায় ঢোল নিয়ে-ঢোল বাজিয়ে বাজিয়ে রাসূলের ঋণ ক্ষমা চেয়ে ছিলেন ।

সূত্র: তাওয়ারীতে মোহাম্মাদী

৩. রাসূলের নির্দেশে সেদিন বিল্লাল তার গলায় ঢোল নিয়ে মদকে নিষেধ করেছিল – কিন্তু ঢোলকে নয় ।

সূত্র: বুখারী শরীফ ৬ষ্ঠ খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা

৪. খাজা বাবা এবং উনার মুর্শিদ ওসমান (রঃ) হারুনী খানকার মজলিসে বসে গান শুনতেছিলেন । আসরে ৯ ব্যক্তি ছিল তার মধ্য ২ ব্যক্তির শুধু পোশাক ছিল । কিন্তু তারা ছিল না । খাজা বাবা উনার পীরকে জিজ্ঞেস করলে ? ওসমান হারুনী (রঃ) বলেন । তারা এস্কের জিকিরে খোদার জাতের সাথে লয় হয়ে গেছে । তারা আর কখনো এ পৃথীবিতে ফিরে আসবে না ।

সূত্র: আনিসুল আরোহা ৮৮ পৃষ্ঠা

৫. রাসূল (সাঃ) যখন মক্কা থেকে মদিনায় এসেছিলেন হিযরত করে । মদিনার মেয়েরা সেদিন ঢুল বাজিয়ে রাসূলকে গান শুনিয়েছিলেন । রাসূল সেদিন গান কে হারাম বলেন নি ।

সূত্র: বুখারী শরীফ ৫ম খন্ড ২২২ পৃষ্ঠা

৬. আনসারী মেয়েরা আমার রাসূলের হিযরতের সময় নৃত্য করে গান গেয়ে শুনিয়ে ছিলেন । সেদিন রাসূল নিজেই আনন্দিত ছিলেন ।

সূত্র: বুখারী শরীফ ৫ম খন্ড ২২৩ পৃষ্ঠা

৭. রাসূল (সাঃ) যখন মা আয়েশার ঘরে গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন । তখন মদিনার মেয়েরা নৃত্য করে গান গেয়ে নবীর ঘুম ভেঙ্গে দিয়েছিলেন । আবু বক্কর মেয়েদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতে গেলে । রাসূল তখন আবু বক্কর (রাঃ) কে ধমক দিয়ে তাদের গাওয়াকে উৎসাহ দিয়ে ছিলেন ।

সূত্র: বুখারী শরীফ ১ম খন্ড ২৭৭পৃষ্ঠা

৮. একদিন জিব্রাঈল রাসূলকে সংবাদ দিলেন । উনার গরীব উম্মতগন ধনী উম্মতদের চেয়ে ৪০০ শত বছর আগে জান্নাতে যাবে । সেদিন রাসূল খুশি হয়ে বলেছিলেন । তোমাদের মধ্য কে গান জান ? আমাকে গান শোনাও । তখন বধুবী নামক এক ব্যক্তি রাসূল (সাঃ) সহ ভরা মজলিসে গান গেয়ে শুনিয়ে ছিলেন ।

সূত্র: কুৎনীত শরীফ ৩৩৭ পৃষ্ঠা

৯. রাসূল (সাঃ) মূসা নামক তার এক সাহাবীর কন্ঠে গান শুনে-সেদিন বলেছিলেন হে মূসা নিশ্চয় দাউদ নবীর বংশ হতে আমার আল্লাহ্ তোমাকে এই সুর দিয়েছেন ।

সূত্র: মূল বুখারী শরীফ ৭৫৫ পৃষ্ঠা

১০. সায়মা নামক এক মহিলা আমার রাসূলকে কোলে নিয়ে গান গেয়ে শুনিয়ে ছিলেন ।

সূত্র: বুখারী শরীফ ৫ম খন্ড ৫৩-৫৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত

১১. পবিত্র কাবা তোয়াফ কালে এক রমনী জুনায়েদ বোগদাদী (রঃ) কে গান গেয়ে শুনিয়ে ছিলেন ।

সূত্র: তাযকেরাতুল আউলিয়া ৩য় খন্ড ১৩৭পৃষ্ঠা

১২. মসজিদে নববী তৈরি করার সময় আমার রাসূল নিজেই তারানা গেয়েছিলেন ।

সূত্র: বুখারী শরীফ ৬ষ্ঠ খন্ড ১৯৮ পৃষ্ঠা

উপরের দলিল গুলো যদি আপনাদের বিশ্বাস না হয় তাহলে আপনারা নিজেরাই উক্ত হাদিস পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন । গান-বাজনা এবং নৃত্য কে সরাসরি হারাম বা নাজায়েজ বলা উচিত নয় । কারন তুমি আল্লাহ্কে যেভাবে, যে অবস্থায় স্বরন করোনা কেন আল্লাহ্ তাতেই সাঁড়া দিবেন ।

তাছাড়া কোরআন শরীফের এক জায়গায় শানে নুযুল এ বলা আছে দাউদ নবী (আঃ) এর বাশির সুরের কথা, তিনি ভালো বাশি বাঁজাতে পারতেন।

Previous Article

ফায়সালা

Next Article

স্মরণঃ আহ্‌লা দরবার শরীফের প্রাণপুরুষ সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ) ❤️