সুফি কালাম, কাওয়ালী, সেমা মাহফিল নিয়ে শায়েখ সাইফুল আযম বাবর আজাহারী সাহেবের আলোচনার কিছু অংশ পেশ করছি…
আলোচনা থেকে বোঝা গেল সুরের সাথে মানুষের মনের যে ভাব বা সম্পর্ক তাই যুগে যুগে ইসলামের মূল বানী প্রচারে সাহায্য করে আসছে। সেমা মাহফিলে পেশ করা কাওয়ালীর সুরে বাধানো সূফী কালাম, মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথেই আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সাধারন মানুষেরা বুঝে না বুঝেই এই সুরে মাতোয়ারা হয়ে রয়েছি। আল্লাহ-রাসুলকে পাওয়ার এ এক অন্যরকম পথ, সুরে সুরে যাত্রা, মহান মনিবের সান্যিধ্যে যাওয়ার এক আলোকিত পথ।
আশ্চর্য্যজনক ভাবে আধুনিক বিজ্ঞান সবে মাত্র বুঝতে শুরু করেছে সুরের প্রভাব কিভাবে মানুষের মনে-দেহে অনুরনিত হয়, কিভাবে মনোজগতকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে পারে।

পাশের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা প্লেটের উপর সামান্য বালু ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে, তারপর প্লেটটিকে বিভিন্ন ফ্রিকুইন্সিতে (Variosu Frequncy of sound) নাড়ানো হচ্ছে। আশ্চর্য্যজনক ভাবে উপরের বালুকনা গুলো বিভিন্ন প্যাটার্ন ফুটিয়ে তুলছে শব্দের তালে তালে।
আমাদের দেহের ৭০ ভাগই পানি দিয়ে তৈরি, সুরের তালে তালে বালুর কনার মত পানির কনাও উদবেলিত হয়, তাহলে আমাদের দেহে এবং দেহের সাথে সাথে মনেও কি এই সঙ্গীতের দোলা লাগবে না ? অবশ্যই লাগবে এবং আমাদের মনোদৈহিক পরিবর্তন হতে বাধ্য সঠিক সংগীতের মাধ্যমে।
মানব সভ্যতার শুরু থেকে এই নিয়ে প্রচুর গবেষনা হয়ে আসছে, বিভিন্ন সভ্যতায় সুরের এই যাদুকরী প্রভাব নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে যার প্রমান বিভিন্ন প্রত্নতাত্তিক গবেষনায় এইযুগেও উঠে আসছে। আগ্রহীরা আরো বিস্তারিত জানতে নীচের ভিডিওটা দেখে নিতে পারেন।
তারমানে, বৈজ্ঞানিক ভাবে যেমন প্রমান হল সুরের যাদুকরী ক্ষমতা আছে এবং তা যুগ যুগ থেকেই ব্যবহ্রত হয়ে আসছে তেমনি কাওয়ালী মানেই সুর আর কালামের মোহময় খেলা, তাই কাওয়ালীর প্রভাবও আমাদের (বিষেশ করে আশেকদের) মনে যাদুকরী প্রভাব ফেলতে বাধ্য। শায়েখ সাইফুল আযম বাবর আজাহারী সাহেবতো প্রমান দিয়েই দিলেন ইসলামে কাওয়ালী আর ছেমা মাহফিল নিয়ে কোন বিরোধ নাই বরং ইতিহাসেও তা উপস্থিত।
এর পরেও যারা কাওয়ালী এবং ছেমা মাহফিল নিয়ে সংশয় ছড়ায় আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন সেই দোয়াই করছি।
Reference: https://www.facebook.com/share/v/1MN41HdyQh/