হযরত নূরী বাবা (রহঃ)’র অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য এবং কতিপয় শিক্ষনীয় উপদেশ

আল্লাহ তা’আলার অনুপম সৃষ্টি তাঁর আঊলিয়ায়ে কেরাম, বুযূর্গানে দ্বীন ও পীর ফকির দরবেশবৃন্দ।

মহানবী (দঃ) একটি হাদীসে এরশাদ করেছেন, “(সৃষ্টিকুলের মাঝে) আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি হলেন উলামায়ে (হককানী রব্বানী)।”

অর্থাৎ ইসলামের যাহেরী ও বাতেনী জ্ঞানের অধিকারী বুযূর্গমন্ডলীই আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। কেননা, তাঁরা নির্মল আত্মার সিদ্ধপুরুষ; নীতিতে সৎ, সত্যনিষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ, সৃষ্টিকুলের কল্যাণকামী ও পরোপকারী। কুরআন মজীদে এঁদেরকেই আউলিয়া, সিদ্দিকীন, সোয়াদেকীন, সালেহীন, উলুল আমর ইত্যাদি লকব তথা খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে এবং আম্বিয়ায়ে কেরামের পরে সম্মান এঁদেরকেই দেয়া হয়েছে।

আহ্‌লা দরবার শরীফের আউলিয়াকুল শিরোমণি, হাজতে রওয়া, মুশকিল কুশা, সুলতানুল মোনাযেরীন হযরত মাওলানা শাহ্‌ সূফী আবুল মোকারেম মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম আল্‌ কাদেরী, আল্‌ চিশ্‌তী সাহেব কেবলা প্রকাশ নূরী বাবা (রহঃ) পূর্ববর্তী যমানার আউলিয়ায়ে কেরামের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মুসলমান সমাজকে সঠিক পথের দিক নির্দেশনা তথা হেদায়াত দান করেন; শরীয়ত ও তরীকতে দীক্ষা দেন।

অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যঃ

  • তিনি ছিলেন অত্যন্ত মিতব্যয়ী, বেহুদা বা বাহুল্য খরচ তিনি পছন্দ করতেন না। ট্রেনে চলাচলের সময় তিনি তৃতীয় শ্রেনী ছাড়া চড়তেন না। তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করতেন।
  • ঘনিষ্ঠ মুরিদান ছাড়া কেউই তাঁর কামেলীয়াত তথা আধ্যাত্মিক পূর্ণতা ও উৎকর্ষ সম্পর্কে বুঝতে পারতেন না। তিনি সেই সুযোগই দিতেন না।
  • তিনি নিজেকে জাহির করতেন না, অর্থাৎ আত্মপ্রচার বিমুখ ছিলেন।
  • কোন মুরিদ মূল্যবান পোষাক উপহার হিসেবে পেশ করলে তিনি তার আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনা করে ওই উপহার গ্রহণ করতেন, নয়তো ফিরিয়ে দিতেন। এমনি একটি ঘটনার সাক্ষী লক্ষীপুরের মরহুম আফাজউদ্দীন সাহেব। তাঁর সামনে একবার এক গরীব মুরিদ হযরত নূরী বাবা (রহঃ) এর খেদমতে একটি ৫০ টাকার নোট পেশ করেন। পীর ও মুর্শিদ কেব্‌লা (রহঃ) ওই নোট অপর এক মুরিদকে দিয়ে ভাংগিয়ে এনে ১০ টাকা নিজে রেখে বাকি ৪০ টাকা ওই গরীব মুরিদকে ফেরত দেন এবং তাঁকে বলেন, “আমার জন্যে তুমি অর্থ কষ্টে পড় তা আমি চাইনা।” এই ঘটনায় বোঝা যায়, হযরত নূরী বাবা (রহঃ) অত্যন্ত বিবেকবান ও সুবিবেচনাশীল ছিলেন।

কতিপয় শিক্ষনীয় উপদেশ

  • কুরআনে পাক তেলাওয়াত ও যিকির-আযকার অপরিহার্য এবাদত। আর ইবাদতের জন্যে প্রকৃষ্ট সময় হচ্ছে শেষরাত্রি।
  • কর্মের মধ্যে খোদা প্রাপ্তি নিহিত রয়েছে এবং ধর্মসম্মত দুনিয়াদারী করা মোমেনের জন্যে এবাদত।
  • খোদাপ্রাপ্তির পথে যুক্তিতর্ক চলেনা; বিশ্বাস, ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে খোদা তা’য়ালার রেযামন্দি হাসিল করা যায়।
  • তরীকতপন্থীদের স্বল্পভাষী হওয়া বাঞ্ছনীয়, প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা উচিৎ নয়।
  • তরীকতপন্থীদের রেয়াযত আত্মার পরিশুদ্ধির জন্যে সংযমী হওয়া, স্বল্পহারি হওয়া ও স্বল্প নিদ্রা অত্যাবশ্যক।
  • হালাল রুজি অন্বেষণ করা অপরিহার্য।
  • কল্‌ব সাফাইয়ের জন্যে পীরের সোহ্‌বত (সান্নিধ্য) একান্ত প্রয়োজন।
  • আমার দরবার (আহ্‌লা দরবার শরীফ) তরিকত শিক্ষা ও চর্চার উচ্চতর বিদ্যাপীঠ।
  • এ দরবার থেকে কেউ ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরেনা, যদি তার নিয়্যত (উদ্দেশ্য) সহীহ্‌ (শুদ্ধ) হয়।
  • কখনও মিথ্যা বলোনা, কেননা একটা মিথ্যা বলার জন্যে জন্যে বহু মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়।

হযরত মাওলানা শাহ্‌ সূফী আবুল মোকারেম মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি
রচনা ও সম্পাদনাঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
প্রকাশ কালঃ হযরত নূরী বাবা (রহঃ) এর ৩৫তম বেসাল বার্ষিকী উপলক্ষে ২৭শে অগ্রাহায়ণ, ১৪১৮, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

Previous Article

রক্তদানে বিশেষ অবদান রাখায় বেস্ট অর্গানাইজেশন পুরষ্কার লাভ

Next Article

শোকবার্তা

Write a Comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *