চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় আবির্ভূত আওলাদে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), হাসানী ও হোসাঈনী বংশধারার উজ্জ্বল নক্ষত্র গাউসুল আজম হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ)।

সূফীকূল শিরোমণি শায়খ মোহাম্মদ গৌরী (রহঃ) সূদুর বাগদাদ শরীফ থেকে তৎকালীন বাংলার গৌররাজ্য হয়ে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে বর্তমান বোয়ালখালী থানার আহলা মৌজায় আস্তানা গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে তাঁরই বংশধারার আহলা দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শরাফতের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আমার পরম শ্রদ্বেয় বড় আব্বাজান ক্বেবলা,কুতুবে জামান,হযরত মাওলানা শাহসূফী জনাব কাজী আসাদ আলী সাহেব ক্বেবলা (রহঃ) উপমাদেশখ্যাত মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা,গাউসুল আজম, হযরত শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ সাহেব কেবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি এঁর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর পবিত্র হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। তিনি গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ সাহেব ক্বেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহ)-এঁর অন্যতম খলীফা হিসেবে পরিণত হন এবং স্বীয় পীর ও মুর্শীদ কর্তৃক ‘জনাব’ উপাধিতে ভূষিত হন। পরবর্তীতে গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী হযরত ক্বেবলায়ে আলম (রহঃ) এর ইঙ্গিতেই স্বীয় ভ্রাতুষ্পুত্র, দপ্তরে গাউসুল আজম, ফানায়ে গাউসুল আজম শাহসূফী সৈয়দ আমিনুল হক ওয়াসেল মাইজভান্ডারী ক্বেবলায়ে আ’লম (রহঃ) এর সহিত আহলা দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শরাফতের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জনাব কাজী আসাদ আলী সাহেব ক্বেবলায়ে আলম (রহঃ)’র শাহজাদীর সহিত সাদীয়ে মোবারক সম্পন্ন হয়েছিলো।
পরবর্তীতে জনাব কাজী আসাদ আলী সাহেব ক্বেবলা (রহঃ)’র কেবলার ছোট শাহজাদা আমার পরম শ্রদ্ধেয় দাদাজান ক্বেবলা, হাযত রাওয়া, মুশকিল কোশা, সুলতানুল মোনাজেরীন,হযরতুল আল্লামা শাহ্ সূফী আবুল মোকারেম মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম আল-ক্বাদেরী,আল-চিশতী সাহেব কেবলা প্রকাশ নূরী বাবা (রহ.) মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাধককুল শিরোমণি ইউসুফে সানী, জামালে মোস্তফা, গাউছুল আজম মাওলানা শাহসুফী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী (রহঃ)-এঁর আধ্যাত্মিক শিষ্যত্ব লাভ করেন।
পরবর্তীতে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের অন্যতম হাস্তি, অছি-এ-গাউসুল আজম,আয়নায়ে গাউসুল আজম, ময়নায়ে গাউসুল আজম, সুলতানে সুলতানাত, হযরত শাহসূফী সৈয়দ দেলওয়ার হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) এর সুযোগ্য সাহেবজাদা, হযরত শাহসুফী ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারী (রহঃ) এর বড় সাহেবজাদা মাইজভান্ডার দরবার শরীফের গাউসিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের বর্তমান মোন্তাজেম,জিম্মাদার এবং সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ হোসেইন রাইফ নূরুল ইসলাম (রুবাব) মাইজভান্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) ভাইজান এর সহিত আহলা দরবার শরীফের অন্যতম পীরে কামেল,আমার পরম শ্রদ্বেয় আব্বাজান ক্বেবলা,হাদীয়ে জামান হযরত শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী (রহঃ)’র মেঝ শাহজাদী আমার শ্রদ্ধেয় মেঝো বোনের সাদীয়ে মোবারক সম্পন্ন হয়েছে।
বলা যায় মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাথে আহলা দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বহু বছর আগে থেকেই চলমান।
২০১১ সালের ০৫ এপ্রিল (২২ চৈত্র) আমার প্রাণপ্রতিম মুরশীদ ক্বেবলা, হাদীয়ে জামান,হযরতুল আল্লামা শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী (রহঃ) জাগতীকভাবে পর্দা করার পর থেকেই আমার চোখের দেখা ত্বরীকত, তাসাউফ জগতে বিশ্বের বুকে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রচার-প্রসারে আপন সত্ত্বাকে স্বীয় পীর এবং মুরশীদ ক্বেবলা (রহঃ)’র দেখানো পথে বিলীন করে দেওয়া এক অন্যন্য ত্বরীকত প্রচারকের নাম আহমদী বাগানের অন্যতম প্রষ্ফুটিত ফুল, হযরত শাহসূফী আলহাজ্ব ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)। আপন সত্ত্বাকে মওলার কদম শরীফে উৎসর্গ করার বিনিময়ে হয়েছেন আলোকিত ব্যক্তিত্ব ও তাসাউফে বিশ্বাসী ত্বরীকত পন্থীদের কাছে হয়েছেন একজন “আধ্যাত্মিক রাহবার” ।
শুধু নিজেই আলোকিত নন, বরং আল্লাহ প্রদত্ত নূর, হুজুর পূর নূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরের আলোয় আলোকিত করেছেন বিশ্ব মানবতাকে।
তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক হিসেবে সমাজের দূঃস্থ অসুস্থ ব্যক্তিদের সুস্থতায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন, আবার শিক্ষাবিদ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত থেকে শিক্ষার আলোর মশাল প্রজ্জ্বলন করেছেন আবার তাসাউফে বিশ্বাসী ত্বরীকত পন্থীদের দয়া,মায়া,মেহেরবানি করে জাহেরী এবং বাতেনী ভাবে অসংখ্য অগণিত পথহারা মানুষের পথের দিশারি হিসেবে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করে মানুষকে খোদা মূখী করেছেন, খোদা ভীরু করেছেন,ত্বরীকত পন্থীদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন।
নীতি এবং আদর্শের ক্ষেত্রে আপোষহীন এবং স্পষ্টবাদী হিসেবে হযরত শাহসূফী আলহাজ্ব ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) সবসময় সত্যকে দৃঢ়ভাবে আগলে ধরেছেন এবং আমাদের সকলকেই সেই শিক্ষায় প্রদান করতেন। স্বীয় পীর এবং মুরশীদ অছি-এ-গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহসুফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভান্ডারী সাহেব ক্বেবলা (রহঃ) এর আদর্শে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মূলনীতি হৃদয়ে ধারণ করেছেন। কেউ দোয়ার আরজি জানালে তিনি বলতেন,”দোয়া ওই গাউসে পাকের নিকট”। আমি কেবল তাঁরই গোলাম মাত্র। সর্বশেষ অসুস্থ অবস্থায় দুনিয়াবী চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তিনি যখন চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন আমি হাজির হয়ে আরজ করেছিলাম “আপনার কিছু হলে আমাদের কি হবে? আমরা ছায়া কোথায় পাবো? আমরা আমাদের অভিভাবক কোথায় পাবো?” ঠিক সেই সময়েও তিনি দৃঢ়ভাবে উত্তর দিয়েছিলেন,”ওহ বাবা, তোমাদের গাউসে পাকের কদম শরীফে হাওলা করলাম, তোমাদের আরজি গাউসে ভান্ডারীর কদম শরীফে জানাবে”। এই জায়গা থেকেই আমাদের জন্য শিক্ষনীয় যে, তিনি জাগতিক জীবনের শেষ সময়েও নিজের সত্ত্বাকে গাউসে পাকের কদম শরীফে বিলীন করেছেন।
মাইজভান্ডার দরবার শরীফের অনুসারী, ভক্ত, মুরীদানগণদের জন্য তিনি একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। হুজুর গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) এর রুহানী সন্তান খোলাফায়ে কেরামগণের আউলাদগণকে সাথে নিয়ে তিনিই ‘শানে গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী ফোরাম’ প্রতিষ্ঠা পূর্বক মাইজভান্ডারী ঘারানার সমস্ত দরবার সমূহকে একত্রিত করতঃ মাইজভান্ডার দরবার শরীফের আদর্শিক সৌন্দর্যকে বিকশিত করেছেন। প্রতি বছর চন্দ্র মাসের ২৭ জিলক্বদ হুজুর গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) এর চন্দ্র বার্ষিক ওরশ শরীফ মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহী ময়দানে ‘শানে গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী ফোরাম এর ব্যানারে আয়োজন করেছেন। মাওলায়ে পাকের ইচ্ছায় চন্দ্র (মহরম) মাসের ২৭ তারিখে উনার বেসাল প্রাপ্তি প্রমাণ করেন, তিনি গাউসে পাকের মকবুল ছিলেন।
আমার প্রাণপ্রতিম মুরশীদ ক্বেবলা আহলা দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক সাধক হুজুর হাদীয়ে জামান, হযরতুল আল্লামা,শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী (রহঃ)’র বেসাল প্রাপ্তির পর যখন দরবারের দায়িত্বে থেকে খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার চেষ্টা করছি শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকায় ১২ রবিউল আউয়াল শরীফের মূল দিবসে আমার মুরশীদ ক্বেবলা (রহঃ)’র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জশনে জুলুস এবং ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদযাপন সহ সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যখন সফর করতাম খোজ-খবর রাখতেন,অনেক সময় তিনি খবর পেয়ে নিজে থেকেই জানাতেন, অনুপ্রেরণা দিতেন এবং আমার উপস্থিতিতে আমাকে উদ্দেশ্য করে একটা কথা সবসময় বলতেন,”এত কম বয়সে আমার ছেলেটা খুব ভালোভাবেই ত্বরীকতের হাল ধরেছে, তার জন্য গাউসে পাকের কদম শরীফে আরজি রইলো”। তিনি যখন এইভাবে দোয়া করতেন তখন খুব অনুপ্রানিত হতাম।
একজন অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মহান ব্যক্তিত্ব,একজন রুহানী পথ প্রদর্শক,গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর রক্ত নিজের শরীরে ধারণ করার পরেও যিনি সবসময় নিজেকে গাউসুল আজম মাইজভান্ডাররীর গোলাম এবং খাদেম পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন এমন একজন আধ্যাত্মিক রাহবার,আমাদের মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকা এক অটুট ভরসার নাম হযরত শাহসূফী আলহাজ্ব ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস,জাগতিকভাবে তিনি আমাদের কাজ থেকে বিদায় নিলেও রুহানী ভাবে উনি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং আজীবন আমাদের ছায়া হয়ে থাকবেন।
মাইজভান্ডার দরবার শরীফের স্বরুপ বিশ্লেষক, অছি-এ-গাউসুল আজম,শাহসুফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাঈন মাইজভান্ডারী (রহঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভান্ডারী। উক্ত সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিষদের আমত্যু সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন উনারই যোগ্য উত্তরসূরী হযরত শাহসূফী আলহাজ্ব ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)। আজ এই মহান সংগঠনের পক্ষ থেকে এই স্মরণ সভা আয়োজন করা হয়েছে বিধায় উক্ত সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, হযরত শাহসূফী আলহাজ্ব ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)’র অছিয়তনামা কর্তৃক মনোনীত মোন্তাজেম,জিম্মাদার এবং সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ হোসেইন রাইফ নূরুল ইসলাম (রুবাব) মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) ভাইজান, সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি, মোন্তাজেম, জিম্মাদার,সাজ্জাদানশীন শাহসূফী ডাঃ সৈয়দ হোসেইন সাইফ নিহাদুল ইসলাম মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) ভাইজান এবং সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্য-নির্বাহী সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভাণ্ডারী সংগঠনের মুখপত্র “লেওয়া-এ-আহমদী” মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রচার-প্রসারে বাতেলদের ভ্রান্ত আক্বিদার বিরুদ্ধে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে, মাওলার দরবারে সেই ফরিয়াদ রাখছি।
আল্লাহ পাক রাব্বুল ইজ্জত তার প্রিয় হাবীব হুজুর পূর নূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উসিলায় আমাদের সকলের এই প্রয়াস কবুল করুক,আমিন।
বেহুরমতে সাইয়িদিল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
২০শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং
লেখকঃ সৈয়দ আব্রার ইব্নে সেহাব (আল-ক্বাদেরী, আল-চিশতী)
সাজ্জাদানশীন আহলা দরবার শরীফ, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম